September 20, 2026, 7:38 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় এক কৃষককে মারধর করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুবৃর্ত্তরা ওই কৃষকের স্ত্রীকেও অপহরণ চেষ্টা চালায়। চকরিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে এবিসি সড়কের লালব্রীজের উত্তর দিকে ওই নারীকে অপহরণ চেষ্টা চালানো হয়েছে। সম্ভ্রম ও জীবন বাঁচাতে ওই নারী আত্মচিৎকার করছিলেন। এ সময় বিল থেকে কয়েক জন কামলা দ্রুত ওই স্থানে পৌছে। তারা ওই নারীকে সম্ভ্রম রক্ষা করে গাড়ীতে করে পেকুয়ায় পৌছিয়ে দেন। এ দিকে সম্প্রতি ওই নারীর স্বামীকেও অপহরণকারী চক্র পিটিয়ে আহত করেছে। এ সময় তার কাছ থেকে স্বল্প পরিমাণ টাকা ও মুঠোফোনও লুট করে নিয়ে যায়। হামলার শিকার ব্যক্তি পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করে। পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে ওসি জানিয়েছেন বিষয়টি উভয়পক্ষের মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। ৩১ আগষ্ট (রবিবার) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের হাজিবাজারে হামলার এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম আবুল হোছন (৫০)। তিনি সোনাইছড়ি মাঝেরপাড়া গ্রামের মৃত উকিল আহমদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, ওই দিন রাত ৮ টার দিকে আবুল হোছন হাজী বাজারে দৈনন্দিন নিত্যপণ্য ক্রয় করছিলেন। এ সময় হাজী বাজারের জব্বার সওদাগরের চায়ের দোকানে আবুল হোছেনকে মারধর করা হয়েছে। সুত্র জানায়, সোনাইছড়ি হাজীরবাড়ির মৃত মোক্তার আহমদের ছেলে যুবদল টইটং ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক শওকতুল ইসলাম খোকন কৃষক আবুল হোছনকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। এক পর্যায়ে শারীরিক হেনস্থাসহ তাকে পিটিয়ে পকেট থেকে ২ হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এসে তাকে উদ্ধার করে। আবুল হোছন জানান, খোকন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে ইতিপূর্বে আমার স্ত্রী কুলসুমাকে অপহরণ চেষ্টা চালায়। চকরিয়া জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে স্ত্রী বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে এবিসি সড়কের লালব্রীজের উত্তর দিকে তারা আমার স্ত্রীকে টানা হ্যাঁছড়া করে সিএনজি থেকে নামিয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি করে আরেকটি গাড়ীতে উঠিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। বিলে কামলারা দ্রুত এসে স্ত্রীকে উদ্ধার করেছে। এর আগে খোকন গভীর রাতে আমার বাড়ীতে সন্ত্রাসী নিয়ে হানা দেয়। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অস্ত্র তাক করে আমাকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করতে প্রচেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে খোকন ফের আমার বসতবাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বসতবাড়ির রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ গাছালি লুট করার চেষ্টা চালায়। আমরা গিয়ে থামিয়ে দিয়েছিলাম। পৈত্রিক ভিটায় আমরা পূর্ব পুরুষ ২শ বছর আগে থেকে বসবাস করছি। আমার পিতামহ ও পূর্ব পুরুষরা বর্তমান বসতভিটার উচ্চতর রেকর্ডীয় মালিক। বিএস রেকর্ডের বিরুদ্ধে আমরা আদালতে মামলা করেছি। জমাভাগ খতিয়ানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আছে। কিন্তু এরপরেও পেশীশক্তির জোরে খোকন আমাকে উচ্ছেদ করতে চান। এ ভাবে হয়রানি মামলা, মোকদ্দমা ও পথে ঘাটে হামলা চালিয়ে আমাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ পায়তারা করছে। এমনকি অস্ত্র ও মাদক ডুকিয়ে দিয়ে আমাকে মামলায় জড়ানোর হুমকিও দিচ্ছে। আমার মেয়ের জামাই সোহেলকেও একবার প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। বেদম মারধর করে মারাত্মক জখম করেছিল।